অবশেষে দিশা খুঁজে পেল বঙ্গ বামফ্রন্ট? রাজ্য নয়, কেন্দ্রকেই টার্গেটে নিল তারা

দেরিতে হলেও অবশেষে বোধহয় দিশা খুজে পেল রাজ্য বামফ্রন্ট। একুশের ভোটের ময়দানে কেন্দ্রে এবং রাজ্যকে এক নিশানায় রেখে প্রচারে নেমেছিল বামেরা। কিন্তু তাদের এই দুমুখো নীতি বাংলার মানুষ ভালো চোখে নেয়নি, তা ভোট ফলাফলেই স্পষ্ট। আর সেই কারণেই এবারে পেট্রোপণ্য এবং নিত্য প্রয়োজনীয় মূল্যবৃদ্ধির বিরুদ্ধে আগামী ২৪ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত কেন্দ্র বিরোধী কর্মসূচি নিল রাজ্য বামফ্রন্ট। রাজ্য ছাড়িয়ে কেন্দ্র বিরোধী এই আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন বাম নেতারা। মূলত বামফ্রন্টের নেতারা বুঝতে পেরেছেন, এই মুহূর্তে রাজ্যের মমতা সরকারের বিরুদ্ধে গিয়ে আন্দোলন সংগঠিত করলে বাংলার মাটিতে হালে পানি পাওয়া যাবে না। একুশের নির্বাচনে যেভাবে মমতার দল তৃণমূলকে মানুষ সমর্থন জানিয়েছেন, তাতে রাজ্য সরকারের বিরোধিতায় নামলে তা রাজনীতিতে ফের বুমেরাং হয়ে যেতে পারে। যে কারণে, এবার পেট্রোপণ্য এবং নিত্য প্রয়োজনীয় মূল্য বৃদ্ধির বিরুদ্ধে কেন্দ্রকেই নিশানা করতে চাইছে বাম নেতৃত্ব।

আর উল্লেখযোগ্যভাবে এই কর্মসূচিতে বাদ রাখা হল বামেদের জোট শরিক কংগ্রেস ও আইএসএফকে। তবে এই আন্দোলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে বামফ্রন্টের বাইরে থাকা একাধিক বাম দলকে। সেক্ষেত্রে এই আন্দোলনে শরিক হওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে সিপিআইএমএল ও পিডিএসকে। অথচ একুশের নির্বাচনে বাম মনোভাবাপন্ন এই দলগুলিকে ধর্তব্যের মধ্যেই আনেনি রাজ্য বামফ্রন্ট। তারা ভেবেছিল ছোটখাটো দলগুলিকে পাত্তা না দিয়ে কংগ্রেসের মতো সর্বভারতীয় স্তরের রাজনৈতিক দল এবং সংখ্যালঘুদের ভীড়ে থাকা আইএসএফকে জোটে নিলে লাভবান হবে তারা। কিন্তু ফল মিলেছে উলটো। বরং বিধানসভায় শূন্য হয়ে যেতে হয়েছে তাদের। ফলে এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে মূলত বাম মনস্ক সম্পন্ন রাজনৈতিক দলের বাইরে আর বের হতে রাজি নয় রাজ্য বামফ্রন্ট।

ইতিমধ্যেই বামফ্রন্টের অন্যতম শরিক তথা ৪৪ বছরের শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লক সোজাসাপ্টা কংগ্রেস ও আইএসএফের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবি তুলেছিল। তারা সাফ দাবি জানায়, কংগ্রেস ও আইএসএফ নামক দুটি ক্রাচকে সরাতে হবে। ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা নরেন চট্টোপাধ্যায় বলেন, কংগ্রেস হলো বাজার অর্থনীতির প্রবক্তা আর আইএসএফ হলো সাম্প্রদায়িক। ফলে দীর্ঘদিন মানুষের পাশে থেক লড়াই করা বামফ্রন্ট এই দুই ক্রাচকে সঙ্গে নিয়ে একুশের নির্বাচনে লড়াই করেছিলো বলেই বাংলার মানুষ বামফ্রন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে। ফরওয়ার্ড ব্লকের যে দাবি মেনে নিয়ে আপাতত ফরওয়ার্ড ব্লককে শান্ত করেন রাজ্য বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। তারপরে এবারে কেন্দ্র বিরোধী আন্দোলনে শুধুমাত্র বাম্ফ্রন্ট ও বাম মনোভাবাপন্নদের আমন্ত্রণ জানিয়ে বামেরা কার্যত জানান দিয়ে দিলো, আগামী দিনে সম্ভবত আর সংযুক্ত মোর্চার পথে হাঁটছে না তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *