কোপা আমেরিকা আপডেট: ফের এক গোলেই ম্যাচ জিতল আর্জেন্তিনা

কোপা আমেরিকা ২০২১ টুর্নামেন্টের সব ম্যাচের যাবতীয় আপডেট দেখে নিন খবর অনলাইনে।১২তম ম্যাচ: আর্জেন্তিনা (১) পারাগুয়ে (০)

এখনও নিজেদের সেরা খেলাটা খেলতেই পারছে না আর্জেন্তিনা। তবুও কাজের কাজ ঠিক হয়ে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ভোর, অর্থাৎ স্থানীয় সময় সোমবার রাতে পারাগুয়েকে ১ গোলে হারাল আর্জেন্তিনা। আগের ম্যাচে উরুগুয়ের বিরুদ্ধেও ঠিক এটাই করেছিল মেসির দল।উরুগুয়ে ম্যাচের মতো এ দিনও শুরুতেই গোল পেয়ে যায় আর্জেন্তিনা। ম্যাচের দশম মিনিটেই পারাগুয়ের জালে বল জড়িয়ে দেন আলেখান্দ্রো দারিও গোমেজ। তার পর থেকেই মূলত ডিফেন্সভিত্তিক খেলা খেলতে শুরু করে তারা। গোল করার মতো কোনো আগ্রহও তাদের মধ্যে আর দেখা যায়নি।

গোটা ম্যাচে সব কিছু পরিসংখ্যানে আর্জেন্তিনার থেকে কিছুটা এগিয়েই ছিল পারাগুয়ে। বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে ছিল তারা। এমন কি এগিয়ে ছিল শট নেওয়ার ক্ষেত্রেও। তবুও ম্যাচ শেষে হাসি আর্জেন্তিনারই। তিন ম্যাচ থেকে ৭ পয়েন্ট নিয়ে নিল তারা।

১১তম ম্যাচ: উরুগুয়ে (১) চিলে (১)

আবার আত্মঘাতী গোল! আর সেই ভুলেরই খেসারত দিতে হল চিলেকে। নইলে তারা হয়তো জিতেই যেত। কোপা আমেরিকার ১১তম ম্যাচে সোমবার চিলের বিরুদ্ধে ১-১ গোলে ড্র করল উরুগুয়ে। ২৬ মিনিটে এদুয়ার্দো বার্গাসের গোলে এগিয়ে যায় চিলে।

এর পর ৬৫ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে চিলেই এগিয়ে ছিল। কিন্তু ৬৬তম মিনিটে আর্তুরো বিদালের আত্মঘাতী গোলে সমতা ফেরায় উরুগুয়ে। তবে গোটা ম্যাচে উরুগুয়েরই দাপট বেশি ছিল। তাই একদম হেরে গেলে অবাক হতেই হত।

১০ম ম্যাচ: কোলোম্বিয়া (১) পেরু (২)

ব্রাজিলের বিরুদ্ধে নাকানিচোবানি খাওয়া পেরু চমক দিল কোলোম্বিয়াকে হারিয়ে দিয়ে। কোপা আমেরিকার দশম ম্যাচে এমনই কাণ্ড ঘটিয়ে দিল তারা। তবে ইউরো রোগ কোপাতেও লেগেছে। এই ম্যাচেও একটু আত্মঘাতী গোল হয়েছে।এ দিন, ম্যাচ শুরুর ১৭ মিনিটের মাথায়ই পেরুকে এগিয়ে দেন সের্খিও পেনা। গোল খেয়ে ম্যাচে প্রবল ভাবে ফিরে আসার চেষ্টা করে কোলোম্বিয়া। বার বার আক্রমণ শানাতে থাকে বিপক্ষ শিবিরের গোলে। অবশেষে ৫৩ মিনিটে তাদের ভাগ্য প্রসন্ন হয়। যদিও সেটা ছিল পেনাল্টি। কিন্তু মিগুয়েল বোর্খা বিপক্ষের জালে বল জড়াতে কোনো ভুলচুক করেননি। যদিও, এর ৯ মিনিট পরেই চূড়ান্ত ধাক্কা খায় কোলোম্বিয়া শিবির। তাদের ইয়েরি মিনা নিজেদের জালেই বল ঢুকিয়ে দেয়। ফলে ২-১-এ লিড পেয়ে যায় পেরু।তবে গোটা ম্যাচে কী ভাবে দাপট নিয়ে কোলোম্বিয়া খেলেছিল, সেটা তাদের পরিসংখ্যান দেখেই প্রমাণিত হয়ে যায়।

৯ম ম্যাচ: একুয়াদোর (২) ভেনেজুয়েলা (২)

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের ম্যাচে একুয়াদোরের বিরুদ্ধে ২-২ গোলে শেষ করল ভেনেজুয়েলা। টুর্নামেন্টের নবম ম্যাচে গোলের খাতা খোলে একুয়াদোর। ৩৯তম মিনিটে আইরতোন প্রেসিয়াদোর গোলে এগিয়ে যায় তারা। ১২ মিনিটের মাথায় সমতা ফেরায় ভেনেজুয়েলা। একুয়াদোরের গোলে বল জড়িয়ে দেন এদসোন কাস্তিয়ো। ৭১ মিনিটে ফের এগিয়ে যায় একুয়াদোর। গোল করেন গোঞ্জালো প্লাতা। ম্যাচটা একুয়াদোরের দখলেই চলে যেত যদি না অন্তিম লগ্নে সমতা ফেরাত ভেনেজুয়েলা। অতিরিক্ত সময়ের প্রথম মিনিটে একুয়াদোরের জালে বল জড়িয়ে দেন রোনাল্‌দ এর্নান্দেজ।

৮ম ম্যাচ: আর্জেন্তিনা (১) উরুগুয়ে (০)

আয়োজক দেশ ব্রাজিল টুর্নামেন্টের প্রথম দুটো ম্যাচ যে দাপটের সঙ্গে খেলেছে, ওই রকম দাপট তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্তিনার মধ্যে দেখা যায়নি ঠিকই, তবে তারা কাজের কাজটি করে দিয়ে যায়। বিশ্ব র‍্যাঙ্কিংয়ে নবম স্থানে থাকা উরুগুয়েকে ১ গোলে হারিয়ে কোপা আমেরিকার গ্রুপ ‘বি’র পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষেই থাকল বিশ্ব র‍্যাকিংয়ে অষ্টম স্থানে থাকা আর্জেন্তিনা।এ দিন ম্যাচ শুরুর ১৩ মিনিটের মাথাতেই আর্জেন্তিনাকে এগিয়ে দেন গুইদো রোদরিগেজ। তার পর থেকে একাধিক সুযোগ তৈরি করতে পারলেও গোলের মুখ আর দেখতে পারেনি আর্জেন্তিনা। তবে এ দিন সাদা নীল জার্সিধারীদের ডেফিন্স মারাত্মক শক্তিশালী ছিল। সেই প্রাচীর ভেদ করে গোলে একটাও শট নিতে পারেনি উরুগুয়ে।

৭ম ম্যাচ: চিলে (১), বোলিবিয়া (০)

চূড়ান্ত দাপট দেখিয়ে বোলিবিয়াকে পরাস্ত করল চিলে। খেলার ফল চিলের পক্ষে ১-০ হলেও ম্যাচে আরও একাধিক গোল করতে পারত তারা। ম্যাচ শুরুর দশ মিনিটের মাথয় বেন বেরেতোনের গোলে এগিয়ে যায় চিলে। তার পর ক্রমাগত দাপটের জালই বিস্তার করে গিয়েছে তারা।গোল ছাড়াও গোলে ১১টা শট নিয়েছিল চিলে। গোটা ম্যাচে ৬২ শতাংশ বল দখলে রেখেছিল তারা। এই জয়ের পর গ্রুপ ‘বি’র লড়াইয়ে চার পয়েন্ট পেয়ে আপাতত লিগ শীর্ষে থাকল চিলে।

৬ষ্ঠ ম্যাচ: ব্রাজিল (৪) পেরু (০)

কোপা আমেরিকায় দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় জয় পেল ব্রাজিল। পেরুকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিলেন নেমাররা। ২ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ শীর্ষে আয়োজক দেশ ব্রাজিলই।প্রথমার্ধে ব্রাজিলকে এগিয়ে দিয়েছিলেন অ্যালেক্স সান্দ্রো। ১২ মিনিটের মাথায় গোল করেন তিনি। নেমারের ক্রস আসে গ্যাব্রিয়াল জেসুসের কাছে। দ্বিতীয়ার্ধে পেরুকে ছিন্নভিন্ন করে দেন নেমাররা।

৬৮ মিনিটের মাথায় ফ্রেডের পাস থেকে গোল করেন নেমার। ডান পায়ের গড়ান শটে গোল করেন তিনি। ৮৯ মিনিটে ব্যবধান বাড়ান এভারটন রিবেইরো। রিচার্লিসনের পাস এবং তাঁর গোল। কিছুক্ষণের মধ্যে স্কোরশিটে নাম তোলেন রিচার্লিসনও। অতিরিক্ত সময় গোল করেন তিনি।

৫ম ম্যাচ: কোলোম্বিয়া (০), ভেনেজুয়েলা (০)

এ দিকে, টুর্নামেন্টের পঞ্চম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কোলোম্বিয়া এবং ভেনেজুয়েলা। তবে গোলের মুখ দেখতে পারেনি কোনো দলই। দুই ম্যাচ থেকে চার পয়েন্ট নিয়ে আপাতত গ্রুপ ‘এ’-তে দু’নম্বর স্থানে রয়েছে কোলোম্বিয়া।

৪র্থ ম্যাচ: পারাগুয়ে (৩), বোলিবিয়া (১)

টুর্নামেন্টের চতুর্থ ম্যাচে বোলিবিয়াকে উড়িয়ে দিল পারাগুয়ে। ম্যাচের প্রথম দশ মিনিটের মাথাতেই গোল করে এগিয়ে যায় বোলিবিয়া। তবে এ ক্ষেত্রে পেনাল্টি পেয়েছিল তারা। সুযোগ নষ্ট করেননি বোলিবিয়ার এরউইন সাবেন্দ্রা।এর পর ৬২ মিনিট পর্যন্ত ম্যাচে এগিয়ে ছিল বোলিবিয়া। কিন্তু ৬২ মিনিট থেকে ম্যাচে ঝড় তুলল পারাগুয়ে। ওই মিনিটে গোল শোধ করে ম্যাচে সমতা ফেরান পারাগুয়ের আলেখান্দ্রো রোমেরো। এর ঠিক তিন মিনিটের মাথায় পারাগুয়েকে এগিয়ে দেন আনখেল রোমেরো। ১৫ মিনিট পর পারাগুয়ের হয়ে জয়সূচক গোলটি করেন আনখেল।

৩য় ম্যাচ: আর্জেন্তিনা (১), চিলে (১)

আন্তর্জাতিক ফুটবলে বার বার আর্জেন্তিনাকে আটকে দেয় চিলে। সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি হল সোমবার। চিলের প্রাচীন আরও একবার ভেদ করতে পারল না সাদা-নীল জার্সিধারীরা। তবে এই ম্যাচেও দেখা গেল লিওনেল মেসির পায়ের জাদু। ফ্রি কিক থেকে অনবদ্য একটি গোল করলেন তিনি। ৩২ মিনিটে ফ্রি কিক পায় আর্জেন্তিনা। চিলের বক্সের ঠিক বাইরে থেকে বাঁ পায়ে অনবদ্য ফ্রি কিক মারেন আর্জেন্তিনার অধিনায়ক। মেসির শট ডানদিকে বাঁক খেয়ে একেবারে পোস্ট আর ক্রসবারের কোণ দিয়ে গোলে ঢুকে যায়।

ম্যাচের ৫৪ মিনিটের মাথায় পেনাল্টি পায় চিলে। সেখান থেকে গোল শোধ করে তারা।

২য় ম্যাচ: কোলোম্বিয়া (১) বনাম একুয়াদোর (০)

কোপা আমেরিকার দ্বিতীয় ম্যাচে কষ্টার্জিত জয় পেল কোলোম্বিয়া। একুয়াদোরকে তারা ১-০ গোলে হারালেও ম্যাচে বেশি দেখাল একুয়াদোরই। বিশ্বকাপার কোলোম্বিয়ার হয়ে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করেন এদউইন কারদোনা। ৪২ মিনিটে গোল করেন তিনি।তবে বল দখলের লড়াইয়ে একুয়াদোর অনেক এগিয়ে ছিল- ৫৯ শতাংশ। এমনকি গোলের উদ্দেশে শট নেওয়ার ক্ষেত্রেও কোলোম্বিয়ার (৫) থেকে এগিয়ে ছিল একুয়াদোর (৮)। কোলোম্বিয়ার ৩৬৫টা পাসের বিরুদ্ধে একুয়াদোর খেলেছিল ৪৬৭টা পাস।

১ম ম্যাচ: ব্রাজিল (৩) বনাম ভেনেজুয়েলা (০)

কোভিডে জর্জরিত দুর্বল ভেনেজুয়েলাকে কার্যত উড়িয়ে দিয়ে কোপা আমেরিকা অভিযান শুরু করল ব্রাজিল। বিপক্ষকে তারা হারাল ৩-০ গোলে। রবিবার, টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচের প্রথমার্ধেই ব্রাজিলের আধিপত্য দেখতে পাওয়া যায়। ২৩ মিনিটে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দেন দলের ডিফেন্ডার মারকুইনোজ। এর পর ৬১ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করেন নেইমার। ৮৯ মিনিটে ভেনেজুয়েলার কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে দেন গ্যাব্রিয়েল বারবোসা।টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যচে এই দাপুটে জয় দিয়ে শুরু করে ব্রাজিল বুঝিয়ে দিল ঘরের মাঠে আয়োজিত এই টুর্নামেন্ট জয়ের অন্যতম দাবিদার তারাই

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *