ইতিহাসে গোল্ড মেডেলিস্ট শিবপুরের স্বর্ণালী NRS হাসপাতালে ডোমপদে চাকরিপ্রার্থী

মানুষ যখন পড়াশোনা শেখেন, তখন অনেক অনেক বড় বড় স্বপ্ন দেখেন।‌কিন্তু স্বপ্ন আর বাস্তবের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। কিছু মানুষের স্বপ্ন পূরণ হয় কিছু মানুষের স্বপ্ন কোনদিন পূরণ হয় না, চির অধরাই থেকে যায়। স্বপ্নপূরণের যন্ত্রণা নিয়ে সেই সকল মানুষকে জীবন যাপন করতে হয়, কেউ আবার যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নেয়। তবে পড়াশোনা শেখার পর প্রত্যেকটি মানুষই জীবনের উচ্চতর পর্যায়ে যেতে চান , কিন্তু আমাদের পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির ফলে সব সময় আমরা সেই চাওয়াটাকে বাস্তবায়ন করতে পারিনা।

অনেক সময় দেখা যায় কিছু মানুষ যোগ্যতার থেকে অনেক বেশি কিছু পান আবার অনেক সময় দেখা যায় কিছু মানুষ যোগ্যতার থেকে খুব সামান্য কিছু লাভ করছেন। যোগ্যতম মানুষকে আমরা যখন তার যোগ্যতার থেকে কম কোন কিছুতে দেখি তখন অবাক হই, কিন্তু কাজের কি কোন ছোট বড় হয়? কাজ তো আসলে কাজ ই স্নাতকে ইতিহাসে গোল্ড মেডেল পাওয়া শিবপুরের স্বর্ণালী সামন্ত‌‌ই এই কথার সব থেকে বড় উদাহরণ।

শিবপুরের স্বর্ণালী সামন্ত এন আর এস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ডোমপদের প্রার্থী হিসেবে আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। কমবেশি সকলেই জানেন যে এই ডোমপদের প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণী পাশ, সেখানে স্বর্নালীর মত স্নাতকে গোল্ড মেডেল একজনের আবেদন করা সত্যি অবাক করে দেয়। তবে স্বর্ণালী কোন কাজকেই ছোট ভাবেন না।

অনেক অল্প বয়সে বিয়ে হয়ে গিয়েছিল স্বর্ণালীর। তারপর শিবপুরে এসে স্বামী দেবব্রতর সঙ্গে তিনি সংসার শুরু করেন, কিন্তু পড়াশোনা করার ইচ্ছা ছিলো বলে বিয়ের পরও পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছিলেন। বিয়ের পরেই ইতিহাস নিয়ে তিনি স্নাতক পাশ করেন ও গোল্ড মেডেল পান। আজ তিনি বর্তমানে এক সন্তানের মা।

জানা গেছে সরকারি চাকরির জন্য একসময় অনেক চেষ্টা করেছিলেন তিনি কিন্তু তার সেই চেষ্টা সফল হয়নি তাই ডালহৌসি এলাকার এক বেসরকারি সংস্থায় রিসেপসনিস্টের কাজ করতেন তিনি। তার স্বামী দেবব্রত Uber বাইক চালান। এভাবেই তাদের তিনজনের সংসার চলে যাচ্ছিল।

কিন্তু করোনাকালে সমগ্র পরিস্থিতি বদলে গেল, লকডাউনে একটানা তিন মাস দুজনেই বাড়িতে বসে রয়েছেন। তাদের মেয়ের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা, সংসারের রোজকার অন্নসংস্থান থেকে শুরু করে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস কেনা সবটাই তাদের জন্য অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছিলো, তাই এনআরএস মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে চাকরির জন্য আবেদন করেছিলেন তিনি। যদিও আবেদন করার সময় তিনি জানতেন না এটি ডোমের পদ। স্বর্ণালীর কথায়,“নিয়োগের বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল ল্যাবরেটরি এটেনডেন্ট (পূর্বের ডোমপদ)।” তাই আবেদনের সময় তিনি জানতেন না সেটি ডোম পদের বিজ্ঞপ্তি তবে বিষয়টি বুঝতে পারলেও তিনি কিন্তু পিছুপা হননি, বলেছেন “কাজের আবার ছোট-বড় কি!”

করোনাকালে বর্তমানে যে পরিস্থিতি সেই পরিস্থিতিতে তার একটা কাজের খুব দরকার তা তিনি নিজের বক্তব্যের মধ্য দিয়েই বুঝিয়ে দিয়েছেন। স্বর্ণালী বলেছেন,“ আমার একটা নিরাপদ চাকরির খুব প্রয়োজন হাসপাতালে ডাক্তার , নার্স সব মেয়েরা হতে পারলে ডোমের কাজ করা থেকে পিছিয়ে আসবো কেন?”

তার আত্মবিশ্বাস দেখে চমকে যেতে হয় তবে স্বর্ণালী বলেন, তার পরিবারের কারণেই আজ তিনি এতোখানি আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন। তাই রবিবার এনআরএস মেডিকেল কলেজে গিয়ে লিখিত পরীক্ষা দিয়ে এসেছেন, এখন শুধু ফলাফল এর দিকে তাকিয়ে বসে আছেন স্বর্ণালী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *