ভাঁড়ারে টান, কলকাতা পুরসভায় বন্ধ হতে চলেছে ‘‌ওভারটাইম-‌ইনসেনটিভ’‌, শুরু প্রক্রিয়া

কলকাতা পুরসভায় এবার ‘ওভারটাইম-ইনসেনটিভ’ বন্ধ হচ্ছে। এরই সঙ্গে অবসরের পরেও যে সমস্ত অফিসার বা কর্মীকে মোটা টাকা বেতন দেওয়া হচ্ছে তাঁদের অধিকাংশকে ছাঁটাই করার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। এই জন্য সোমবারই পুর কমিশনারকে ‘প্রাইস ওয়াটার’ ধাঁচের আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা সংস্থাকে নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। পুরসভার সমস্ত দপ্তরের অফিসার ও কর্মীদের এইচআরএ সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য সংগ্রহ করবে এই সংস্থা।

পুরসভার নিযুক্ত এই সংস্থা পরবর্তী অর্থবর্ষ শুরুর আগেই কোন বিভাগে কতজন অতিরিক্ত অফিসার ও কর্মী আছেন তা যেমন চিহ্নিত করবে, সেই সঙ্গে কেন পুরসভা ‘ওভারটাইম-ইনসেনটিভ’ দিতে বাধ্য হচ্ছে তাও জানিয়ে দেবে। পুরসভার শীর্ষকর্তাদের দাবি, ‘‌আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতার রিপোর্ট হাতে পেলে একদিকে যেমন খরচ অনেক কমানো যাবে, অন্যদিকে কম কর্মী থাকলে শীঘ্রই নতুন কর্মী নিয়োগেরও দরজা খুলবে। চাকরি পাবে আধুনিক তথ্য প্রযুক্তিজ্ঞানসম্পন্ন বহু নতুন মুখ।’‌

প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই ১৬১ কোটি টাকার ঘাটতি বাজেট পেশ করেছে পুরসভা। বেশ কয়েক মাস ধরে পুরসভার ঠিকাদারদের পাওনা মেটাতে পারছেন না পুরকর্তারা। রাশ টানা হচ্ছে খরচে। অন্যদিকে, বর্তমানে কলকাতা পুরসভায় স্থায়ী কর্মী রয়েছেন ২০ হাজার ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১৬ হাজার। কিন্তু করোনাকালে মাত্র ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ অফিসার ও কর্মী নিয়ে পুরসভার পরিষেবা চলছে। আবার অনেক দপ্তরে চাহিদার তুলনায় মাত্র ২৫ শতাংশ কর্মী রয়েছেন। আর এই পরিস্থিতিতে কেন কম কর্মী থাকায় ওভারটাইম হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মুখ্য প্রশাসকের বলেন, ‘‌পুরকর্মীরা কেন আট ঘণ্টার মধ্যে নিজেদের কাজ শেষ করতে পারছেন না? অফিসারদের কাজে ও সমন্বয়ে কোথায় ঘাটতি থাকছে? পুরপরিষেবায় আরও গতি বৃদ্ধিতে ওভারটাইমের কি আদৌ কোনও প্রয়োজনীয়তা রয়েছে? ওই সংস্থা এসবই বিষয়গুলি পুনঙ্খানুপুঙ্খ খতিয়ে দেখে রিপোর্ট দেবে পুরসভাকে।’‌

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *