‘কলকাতার বাসি রসগোল্লা’, দেবশ্রীকে কটাক্ষের সপাটে জবাব দিলেন শ্রীলেখা মিত্র

জি বাংলার আসন্ন ধারাবাহিক “সর্বজয়া”তে প্রধান চরিত্রাভিনেত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করে আবারও টলিউডে ফিরছেন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায় (Debashree Roy)। ধারাবাহিকের প্রোমো প্রকাশিত হয়েছে বহু আগেই। টলিউডের দেবশ্রী রায়কে ফিরতে দেখে খুশি তার অনুরাগীরা। তবে সেই প্রোমোতে দেবশ্রী রায়কে দেখে কু-মন্তব্যের বন্যা বইয়ে দিয়েছেন একদল নেটিজেন। বয়সের ছাপ ফুটে উঠেছে অভিনেত্রীর চেহারায়। আর তাতেই আপত্তি একদল সমালোচকের।

দীর্ঘ বেশ কিছুদিন ধরেই দেবশ্রী রায়কে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ‌বহু সমালোচনা চলেছে। তবে সব থেকে মারাত্মক হলো দেবশ্রীর প্রতি অশালীন মন্তব্যের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন একদল কু-মন্তব্যকারী। দেবশ্রী রায়ের অভিনীত জনপ্রিয় গান “কলকাতার রসগোল্লা” (Kolkatar Rashogolla) উদ্ধৃত করে অনেকেই তাকে কলকাতার “বাসি রসগোল্লা”ও বলছেন! সম্প্রতি নেটিজেনদের এই মানসিকতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছিলেন দেবশ্রী স্বয়ং। তার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন ইন্ডাস্ট্রির বহু অভিনেতা এবং পরিচালক।

অভিনেতা ভাস্বর চট্টোপাধ্যায় সম্প্রতি নেট মাধ্যমে দেবশ্রীর প্রতি নেটিজেনদের কু-মন্তব্যের বিরুদ্ধে সমালোচকদের একহাত নেন। এবার দেবশ্রীর পাশে এসে দাঁড়ালেন বলিউডের আরেক অভিনেত্রী শ্রীলেখা মিত্র (Sreelekha Mitra)। দেবশ্রীর হয়ে আনন্দবাজার পত্রিকায় কলম ধরলেন শ্রীলেখা। ইন্ডাস্ট্রির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে দেবশ্রীর প্রতি শ্রীলেখার মন্তব্য, “এখনও আশা কর তুমি? এখন অভিনেত্রীরাই অভিনেত্রীদের শারীরিক গঠন, খামতি নিয়ে কথা বলে মজা পান! ওঁদের এ সবে কিচ্ছু যায়-আসে না”।

শ্রীলেখা লিখেছেন, “বেশ কিছু দিন ধরে দেখছি, তোমায় নিয়ে নোংরামি হচ্ছে। ইচ্ছে করেই মুখ খুলিনি। নোংরামিকে পাত্তা দেব না বলে। তোমার কলমে তোমার ছোট্ট অভিমান, ‘এক জন অভিনেত্রীও এখনও পর্যন্ত টুঁ শব্দ করলেন না!’ আমি তাই মুখ খুললাম। তুমি আমাদের সবার ভীষণ আদরের, সম্মানের। অনেক কিছু দিয়েছ টলিউডকে। আমরা তোমায় দেখে অনেক কিছু শিখেছি। তিনি আরও বলেছেন, সময়টা বড্ড খারাপ, চুমকিদি। মানুষ তার থেকেও। তুমি কাউকে ক্ষমা করো না। দরকারে মুখের উপর সপাটে জবাব দাও। মন্তব্য আপনা থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু পাত্তা দিও না। ভুলেও মনখারাপ করো না”।

বর্তমান সময়কালের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীলেখার বক্তব্য, “বেশ কিছু দিন ধরেই মানবিকতার, নৈতিকতার এই অবনতি দেখছি। জান তো, রাজনীতি আর সংস্কৃতি পরস্পরের সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িত? তুমি প্রথমটি থেকে সরে এসেছ। কিন্তু দ্বিতীয়টিকে এড়াবে কী করে? এখন এটাই বাংলার সংস্কৃতি। পারিবারিক শিক্ষাটাও সে রকমই। সবাই ঝটপট হাতে মুঠোফোন পেয়ে যাচ্ছে। টিকটক, রিল ভিডিয়ো কত কী বানিয়ে ফেলছে! সে সব নেটমাধ্যমে ভাগ করে নিচ্ছে। এ সবের মধ্যে দিয়েই যেন তারস্বরে একটা কথাই বলছে, ‘আমাকে দেখুন…”।

শ্রীলেখা তার কলামে দেবশ্রীকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, “এদের কাছে তুমি সহানুভূতি আশা করো? এরা আমাদের, অভিনেত্রীদের ভিন গ্রহের জীব ভাবে। ভাবে, আমরা যেন জন্মেই নাম-যশ-অর্থ-খ্যাতি সব পেয়ে গিয়েছি। বোঝেই না, কত ব্যথা, অপমান লুকিয়ে তুমি দেবশ্রী রায় হয়েছ। কত চোখের জল মুছে আমরা যে যার মতো করে পরিচিতি পেয়েছি। আসলে ওরা আমাদের হিংসা করে। ঈর্ষাও করে। ভয় পায়। রেগে যায়। ওদের প্রশ্ন, আমরা কেন এত পাব?”

“সেই জ্বালা, সেই নিরাপত্তাহীনতা, হীনমন্যতা থেকে ওরা আমাদের অপমান করে। আমাদের মই বানিয়ে এরা আসলে জনপ্রিয়তার সিঁড়িতে চড়তে চায়। সেই জায়গা থেকে বয়স নিয়ে, রূপ নিয়ে, শরীর নিয়ে কটাক্ষ ছোড়ে। মূল্যবোধ, মানুষকে সম্মান দেওয়ার অনুভূতিটাই আস্তে আস্তে মরে যাচ্ছে। এরা বোঝে না, এক দিন এদেরও বয়স হবে”। সবশেষে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তার মন্তব্য, “তোমার ‘কলকাতার রসগোল্লা’ একটা সময় সবার মুখে মুখে ফিরত। আজ সেই গান দিয়ে তোমায় অপমান! সত্যিই কিচ্ছু বলার নেই”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *